skip to Main Content

আমি যদি বলি, ৩০০ টাকা ইনভেষ্ট করে ১ লাখ টাকা রুজী করা যায়, মানুষ ভীমরি খাবে৷ হ্যা, সঠিক কানেকশান থাকলে, তা বৈধ পথেই সম্ভব৷ গাঁজাখুরী গল্প নয়৷।।
ধরা যাক, আপনি আপনার পরিচিত গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে খোঁজ নিয়ে ৫০ হাজার পীস মালের একটি ষ্টক এর খোঁজ বের করলেন আর ৩০০ টাকায় একটি স্যাম্পল কিনে কোনো বায়ারকে দেখালেন, বায়ার এই ষ্টক, ৫০ হাজার মাল কিনে নিলে, আপনার রুজী হবে কম করে হলেও ১ লাখ টাকা৷ মনে রাখবেন, সঠিক কানেকশানে শ্রম দিলে টাকা জাদুর মতো আসে৷ এসব গাঁজাখুরী গল্প না৷ নয় কোনো কল্পনা৷ উদ্যোমী পরিশ্রমী তরুন তরুনীরা স্বাধীন ব্যবসা ও পেশা হিসেবে গার্মেন্টস ষ্টক বেছে নিতে পারেন৷ সাত আট দিন কিছু কিছু জিনিস শিখে নিলেই খুব কনফিডেন্টলি যে কোনো ব্যবসা, চাকরির পাশাপাশি করতে পারবেন এঃ ব্যবসা।
আমি গত ১৩/১৪ বছর এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ৪০% বায়ারের সাথে কিছু কিছু ছবি আছে৷ পরিচ করিয়ে দিচ্ছি৷
বায়ার কার্লোস, জার্মান
গার্মেন্ট ষ্টকস এর কয়েকজন বায়ারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই৷ প্রথম ছবিতে আছেন কার্লোস, জার্মানের বায়ার। ১০ থেকে ৩০ হাজার পীস পার আইটেম কিনে থাকেন৷ তার এপ্রুভ করা মাল সাপ্লায়ারকে কিনে পোর্টে পৌছে কাগজ দিলে, এক দিনের মধ্যে টিটি করেন তিনি। সিএনএফ এর হাতে মাল পৌছালে তিনি টাকা পাঠান তিনি৷
বায়ার সাবরেজ সাউথ আফ্রিকার বায়ার৷ মানুষ হিসেবে চমতকার। দরবেশের মতো তার ব্যক্তিত্ব ও গড়ন। বেশী কিনে থাকেন, ৩/৫/৭ গেজ এর মোটা সোয়েটারগুলো, লেডিস ডেনিম, জেগিংস, কখনো প্রাইসে হলে মাষ্টার কপি, ফ্রেশ অর্ডার করেন ডেনিম আইটেমগুলো৷ ২ থেকে ২০ হাজার মাল ক্রয় করে থাকেন একেক আইটেম। নীতিবান বায়ার৷ কথা ঘোরান না। তিনি প্রতি বছর দুবার ঢাকায় আসেন। ৩/৪ দিন বসেন। প্রায় ৯/১০ কন্টেইনার মাল , ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মাল ক্রয় করেন৷
ইরানের নতুন বায়ারের পর আছেন, মেরিলো। মেরিলো ফিলিপাইনের বায়ার৷ কোরাও একই দেশের৷ তারা নিজেদের অফিস মেইনটেইন করেন বাংলাদেশে ও প্রতি দুতিন মাসে এজ কন্টেইনার করে মাল ফিলিপাইনে নিয়ে যান৷ মেরিলো সু পরিচিত৷ তিন থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত পার আইটেম কিনে থাকেন৷ লেডিস ডেনিম, টি শার্ট, ২ বছরের ওপর বয়েজ আইটেম, কার্গো, ফোর পকেট, সুইমিং শর্ট, প্যান্টি, আন্ডার ওয়ার, এইচএনএম সহ খ্যাতনামা ব্রান্ড গুলো, নিয়মিত ক্রয় করেন৷ কোরাও ফিলিপাইনের বা একই মার্কেটের বায়ার৷
ফিলিপাইণে মেরিলোর যমুন ফিউচার মার্কেটের মতো একটি মার্কেট রয়েছে৷
বায়ার Albert, usa
albert রুই কাতল টাইপ বায়ার। ৩০ হাজারের নীচে কোনো আইটেম অফার করলে বিরক্ত হন৷ এক আইটেম ৩ লাখ পর্যন্ত কোনো আইটেম কিনে থাকেন৷ তার এটি সাইড বিজনেস। মূলত- তিনি চায়না গভর্নমেন্ট কে ক্রুয়েড ওয়েল বিক্রয় করে থাকেন৷ ভেনিজুয়েলা থেকে ক্রয় করে চায়নাতে বিক্রয় করে থাকেন।
বায়ার দমিনিক, থাইল্যান্ড থাইল্যান্ডের বায়ার নোভাডল, পল, দমিনিক ৩ জনই নিয়মিত বায়ার হলেও, দমিনিক হিউজ ভলিউম ষ্টক নিয়ে থাকেন বাংলাদেশ মার্কেট থেকে। একবার দমিনিকের কাছে আমি ৫০ হাজার jack n jones t shirt বিক্রয় করেছি। বায়ার অনেক পুরোনো হওয়াতে খুব চতুর হয়ে গেছেন,তার নীতিও কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যাওয়াতে এখন আর তার সাথে ব্যবসা করে শান্তি নাই৷ দেশী বা বিদেশী, ব্যবসায়ী যে দেশীই হোক, নীতি হারালে ব্যবসা করা কঠিন। দমিনিক তার ক্রেজি ইমেজ হারিয়ে ব্যবসা ভাটার দিকে নিয়ে গেছেন।

Back To Top